সাধারণত, ব্যথাকে দুটি ভাগে ভাগ করা হয়: Acute (তীব্র) এবং Chronic (দীর্ঘস্থায়ী)।

Acute Pain বা তীব্র ব্যথার ক্ষেত্রে, ব্যথা সংবেদী অঙ্গগুলো মেরুদণ্ড এবং মস্তিষ্কে আঘাত সম্পর্কে খবরাখবর প্রেরণ করে, যার ফলে আপনি আঘাতপ্রাপ্ত স্থানটিকে রক্ষা করার জন্য সচেতন হয়ে উঠেন। এমন Acute pain বা তীব্র ব্যথার উদাহরণ হলো, আগুনে হাত পুড়ে যাওয়া বা পায়ের আঙুলে আঘাত লাগা ইত্যাদি। এমন ব্যথার ক্ষেত্রে দেখা যায় আঘাত সেরে গেলে এই ধরনের ব্যথাও দূর হয়ে যায়। তবে, কখনও কখনও এমন ব্যথা সেরে উঠলেও মস্তিষ্ক ব্যথাটি অনুভব করতে থাকে।


দীর্ঘস্থায়ী বা Chronic Pain আসলে Acute pain থেকেই শুরু হয়। এমন ব্যথা যখন আমাদের শরীরে ৩ থেকে ৬ মাসের বেশী সময় ধরে থাকে তখন সেটিকে দীর্ঘস্থায়ী বা Chronic Pain-এর নাম দেওয়া হয়। কিছু ক্ষেত্রে, দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা Arthrities বা Cancer –এর মতো অসুখের কারনেও হতে পারে। দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা মাস বা বছর ধরে চলতে পারে, তা অবিরাম বা থেমে থেমে হতে পারে এবং সময়ের সাথে সাথে এর তীব্রতাও পরিবর্তিত হয়।  

তীব্র ব্যথা দীর্ঘস্থায়ী ব্যথায় রূপান্তরিত হওয়ার পেছনে জিনগত কারণ, শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়া এবং এমনকি মনস্তাত্ত্বিক কারণও জড়িত থাকতে পারে। তীব্র ব্যথা ঠিক কীভাবে দীর্ঘস্থায়ী হয়ে ওঠে, তা সঠিকভাবে নির্ণয় করা ব্যথাবিষয়ক গবেষকদের জন্য অন্যতম প্রধান একটি চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।


Acute ও Chronic ব্যথা ছাড়াও আরও কয়েক ধরণের ব্যথা হয়, যেমন - সোম্যাটিক, ভিসারাল এবং নিউরোপ্যাথিক ব্যথা। সোম্যাটিক ব্যথার (Somatic pain) উৎপত্তি ত্বক বা পেশী-অস্থি কলাতে হয় এবং একে তীব্র, যন্ত্রণাদায়ক, দপদপে বা কামড়ানোর মতো বলে বর্ণনা করা যেতে পারে, অন্যদিকে ভিসারাল ব্যথার (visceral pain) উৎপত্তি কোনো অভ্যন্তরীণ অঙ্গ থেকে, যেমন পাকস্থলী, এবং একে সাধারণত গভীর ও যন্ত্রণাদায়ক বলে বর্ণনা করা হয়। নিউরোপ্যাথিক ব্যথা (Neuropathic pain) প্রান্তীয় স্নায়ু, মেরুদণ্ড বা মস্তিষ্কের ক্ষতির ফলে হয় এবং একে প্রায়শই জ্বালা বা ছুরিকাঘাতের মতো অনুভূতি হিসাবে বর্ণনা করা হয়।